দুপুর একটা, ব্যালেন্স শেষ। কাস্টমার ৮,০০০ টাকা ক্যাশ ইন করতে এসেছে, আপনার ওয়ালেটে ১,২০০। "ভাই, একটু পরে আসেন" — সে পাশের দোকানে গেল, আর পরেরবার সরাসরি ওখানেই যাবে। উল্টো দিকে গ্রামের পয়েন্টে একই সময়ে ড্রয়ার শূন্য, ভাতার টাকা তুলতে আসা পাঁচজন ফিরে গেল।

দুটো সমস্যার কারণ একটাই: সকালে ক্যাশ আর ব্যালেন্সের ভাগটা এলাকার সাথে মেলেনি। এজেন্ট ব্যবসায় পুঁজি কত সেটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পুঁজি কোথায় রাখলেন ততটাই। এই লেখায় নিজের এলাকার ধরন চেনা, ৭ দিনের হিসাব থেকে নিজের অনুপাত বের করা, আর মাসের বিশেষ দিনগুলোর প্রস্তুতি — সংখ্যা দিয়ে।

📲 পুরনো দিনের ক্যাশ-ব্যালেন্স দেখা যায় — অ্যাপ দেখুন

আপনার এলাকা কোন ধরনের?

ধরনকোথায়দিনভর কী হয়সকালে বেশি লাগে
ক্যাশ ইন-প্রধানশহর, শিল্প এলাকা, গার্মেন্টসের আশপাশ, বাজার, বাসস্ট্যান্ডমানুষ বাড়িতে টাকা পাঠায়; ড্রয়ার ভরে, ব্যালেন্স নামেব্যালেন্স
ক্যাশ আউট-প্রধানগ্রাম, উপজেলা, রেমিট্যান্স এলাকা, ভাতা-উপবৃত্তির পয়েন্টমানুষ টাকা তোলে; ব্যালেন্স জমে, ড্রয়ার খালি হয়ক্যাশ
মিশ্রমফস্বল শহর, বড় বাজারসকালে এক রকম, বিকেলে আরেক রকম; মাসের শুরুতে ক্যাশ আউট, মাঝে ক্যাশ ইনদুটোই, দিনভেদে

অনুমানে না — এক সপ্তাহের হিসাব দেখুন। প্রতিদিন রাতে ক্যাশ ইন মোট আর ক্যাশ আউট মোট পাশাপাশি লিখলে সপ্তাহ শেষে ধরনটা পরিষ্কার। একাধিক ওয়ালেট থাকলে ওয়ালেটভেদে ধরন আলাদা হতে পারে — বিকাশে ক্যাশ ইন বেশি, নগদে ক্যাশ আউট বেশি, এটা খুব সাধারণ (নগদ এজেন্ট হিসাব লেখায় কারণটা আছে)।

৭ দিনের হিসাব থেকে নিজের অনুপাত বের করুন

  1. সাত দিন প্রতিদিন লিখুন: দিনের সর্বোচ্চ ক্যাশ আউট (একদিনে মোট কত নগদ বেরোল) আর সর্বোচ্চ ক্যাশ ইন (মোট কত ব্যালেন্স বেরোল)।
  2. সাত দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যা দুটো নিন — গড় না, সর্বোচ্চ। কারণ গড়ের দিনে সমস্যা হয় না, হয় বড় দিনে।
  3. দুটোকেই ২০% বাড়িয়ে নিন — DSO দেরি করলে বা হঠাৎ বড় কাস্টমার এলে।
সকালে দরকারি ক্যাশ = সপ্তাহের সর্বোচ্চ দৈনিক ক্যাশ আউট × ১.২
সকালে দরকারি ব্যালেন্স = সপ্তাহের সর্বোচ্চ দৈনিক ক্যাশ ইন × ১.২
দুটো যোগ করে যদি পুঁজির চেয়ে বেশি হয় — দিনে একবার লিফটিং ধরে নিন, আর যেটা আগে শেষ হয় সেটা বেশি রাখুন।

এই হিসাবটা করতে পুরনো দিনের ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউটের মোট লাগে। খাতায় প্রতিটা লেনদেন লিখলে যোগ করে পাবেন; অ্যাপে ওপেনিং-ক্লোজিং থেকে দিনের ঘোরাফেরা নিজে বের হয় — ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট হিসাব লেখায় কেন, সেটা আছে।

১ লাখ পুঁজির ভাগ — তিন ধরনের পয়েন্টে

পয়েন্টসকালে ক্যাশসকালে ব্যালেন্সদিনে কী করতে হবে
ক্যাশ ইন-প্রধান (শহর)২৫,০০০৭৫,০০০দুপুরে ড্রয়ার ভরলে ১ বার লিফটিং
ক্যাশ আউট-প্রধান (গ্রাম)৬৫,০০০৩৫,০০০বিকেলে ব্যালেন্স দিয়ে ক্যাশ নেওয়া
মিশ্র৪৫,০০০৫৫,০০০সাধারণত কিছু না; মাসের শুরুতে ক্যাশ বাড়ানো

সংখ্যাগুলো উদাহরণ — আপনারটা উপরের ৭ দিনের হিসাব থেকে আসবে। লক্ষ্য করুন: পুঁজি একই, কিন্তু শহরের ভাগটা গ্রামে বসালে গ্রামের পয়েন্ট সকাল ১১টায় বন্ধ। কত পুঁজি লাগে সেটা নিয়ে আলাদা লেখা: এজেন্ট ব্যবসা শুরু করতে কত পুঁজি লাগে।

মাসের বিশেষ দিন: ভাতা, বেতন, ঈদ

এই দিনগুলোর জন্যই পুরনো হিসাব পেছনে গিয়ে দেখতে পারা দরকার। "গত ঈদের আগের শুক্রবার কত ক্যাশ আউট হয়েছিল" — এই একটা সংখ্যা জানলে এবারের প্রস্তুতি অনুমান না, হিসাব।

গত মাসের একই দিনে কত লেগেছিল — এক ট্যাপে

এজেন্ট হিসাব অ্যাপে যেকোনো পুরনো দিনের ক্যাশ, ওয়ালেট ব্যালেন্স আর লেনদেন পেছনে গিয়ে দেখা যায়। ভাতার দিন, বেতনের সপ্তাহ, ঈদ — প্রস্তুতি সংখ্যা দেখে।

ফ্রি ডাউনলোড করুন

একাধিক ওয়ালেটে ব্যালেন্স ভাগ

বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় — চারটায় সমান ভাগ করলে দুটোয় টাকা বসে থাকবে, দুটোয় কম পড়বে। নিয়ম: যে ওয়ালেটে প্রতি হাজার টাকা পুঁজিতে মাসে বেশি কমিশন আসে, সেখানে বেশি। হিসাবটা সহজ — মাসের ওয়ালেটভিত্তিক কমিশন ÷ ওই ওয়ালেটের গড় ব্যালেন্স। যে ওয়ালেটে সপ্তাহে দুটো লেনদেন, সেখানে এক-দুই দিনের ক্যাশ আউট সামলানোর মতো রাখুন, বাকিটা সরান। বিস্তারিত: একাধিক ওয়ালেটের হিসাব আর উপায় এজেন্ট হিসাব (চতুর্থ ওয়ালেটের উদাহরণ)।

তবু শেষ হয়ে গেলে: ব্যালেন্স শেষ / ক্যাশ শেষ

পুঁজি কম হলে

পুঁজি ৫০ হাজার, কিন্তু ৭ দিনের হিসাব বলছে দরকার ৯০ হাজার? তিনটা রাস্তা: দিনে দুইবার লিফটিং ধরে চলা (DSO নির্ভরযোগ্য হলে), ব্যাংক দিয়ে তাৎক্ষণিক কেনার ব্যবস্থা, অথবা যে ওয়ালেটে আয় কম সেটায় ব্যালেন্স কমিয়ে মূল ওয়ালেটে আনা। আর বাকি কমানো — কাস্টমারের কাছে আটকে থাকা ১০ হাজার মানে সকালে ১০ হাজার কম পুঁজি। বাকির হিসাব রাখার নিয়ম লেখায় সীমা ঠিক করার পদ্ধতি আছে।

এজেন্ট হিসাব অ্যাপে

এজেন্ট হিসাব অ্যাপে প্রতিটা দিনের ওপেনিং-ক্লোজিং জমা থাকে, যেকোনো পুরনো দিনে পেছনে গিয়ে দেখা যায় সেদিন ক্যাশ আর প্রতিটা ওয়ালেটে কত ছিল, কত ঘুরল, কমিশন কত হলো। ৭ দিনের হিসাব তাই আলাদা করে রাখতে হয় না — অ্যাপেই আছে। আর মাস শেষে ওয়ালেটভিত্তিক কমিশন দেখে কোন ওয়ালেটে পুঁজি বাড়াবেন, সেটা সংখ্যায় ঠিক করতে পারেন।

সচরাচর প্রশ্ন

এজেন্ট পয়েন্টে সকালে কত ক্যাশ আর কত ব্যালেন্স রাখা উচিত?

এলাকার ওপর নির্ভর করে। ৭ দিনের হিসাব থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক ক্যাশ আউট আর সর্বোচ্চ দৈনিক ক্যাশ ইন বের করুন, দুটোকে ২০% বাড়ান — প্রথমটা সকালের ক্যাশ, দ্বিতীয়টা সকালের ব্যালেন্স। শহরের ক্যাশ ইন-প্রধান পয়েন্টে ব্যালেন্স বেশি, গ্রামের ক্যাশ আউট-প্রধান পয়েন্টে ক্যাশ বেশি লাগে।

ক্যাশ ইন-প্রধান আর ক্যাশ আউট-প্রধান এলাকা কীভাবে বুঝব?

এক সপ্তাহ প্রতিদিন রাতে মোট ক্যাশ ইন আর মোট ক্যাশ আউট পাশাপাশি লিখুন। ক্যাশ ইন বেশি হলে (শহর, শিল্প এলাকা, বাজার — মানুষ টাকা পাঠায়) আপনি ক্যাশ ইন-প্রধান; ক্যাশ আউট বেশি হলে (গ্রাম, রেমিট্যান্স, ভাতার এলাকা — মানুষ টাকা তোলে) ক্যাশ আউট-প্রধান। একই দোকানে ওয়ালেটভেদে ধরন আলাদা হতে পারে।

দুপুরে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে কী করব?

ব্যালেন্স দিনের গড় ক্যাশ ইনের এক-তৃতীয়াংশে নামলেই DSO-কে ডাকুন, শূন্য হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। জরুরি হলে পাশের এজেন্ট থেকে B2B নিন আর নগদ পরে দিলে তার নামে দেনা লিখুন। ব্যাংক দিয়ে তাৎক্ষণিক কেনার ব্যবস্থা থাকলে DSO-র জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

ভাতা বা বেতনের দিনে কত ক্যাশ লাগবে কীভাবে জানব?

আগের মাসের একই দিনের হিসাব দেখুন — সেদিন মোট কত ক্যাশ আউট হয়েছিল, সেটাই সবচেয়ে ভালো অনুমান, ২০% বাড়িয়ে নিন। এই কারণেই পুরনো দিনের হিসাব পেছনে গিয়ে দেখতে পারা জরুরি; অ্যাপে রাখলে প্রতিটা দিনের ক্যাশ আর ওয়ালেটের ব্যালেন্স জমা থাকে।

একাধিক ওয়ালেটে পুঁজি কীভাবে ভাগ করব?

সমান ভাগ না। মাসের ওয়ালেটভিত্তিক কমিশনকে ওই ওয়ালেটের গড় ব্যালেন্স দিয়ে ভাগ করলে প্রতি হাজার টাকায় কত আয় হচ্ছে জানা যায় — যেখানে বেশি, সেখানে বেশি পুঁজি। যে ওয়ালেটে লেনদেন কম, সেখানে এক-দুই দিনের ক্যাশ আউট সামলানোর মতো রেখে বাকিটা সরান।

শেষ কথা

এজেন্ট ব্যবসায় কাস্টমার হারানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ দাম বা ব্যবহার না — "এখন নেই, একটু পরে আসেন"। সেটা ঠেকানোর উপায় বেশি পুঁজি না, ঠিক জায়গায় পুঁজি। ৭ দিনের হিসাব করুন, নিজের অনুপাত বের করুন, মাসের বিশেষ দিনগুলোর আগে গত মাসের সংখ্যাটা দেখুন। এক সপ্তাহের হিসাবই বছরের "একটু পরে আসেন" বাঁচিয়ে দেয়।