"এই মাসে কত কমিশন পেলাম?" — এই প্রশ্নের উত্তর অনেক এজেন্ট ভাই দিতে পারেন না। কারণ কমিশন আসে ধীরে ধীরে, প্রতিটা লেনদেনের সাথে সামান্য করে। এজেন্ট কমিশন হিসাব ঠিকমতো না রাখলে মাস শেষে শুধু অনুমানই থাকে।

আর যাদের একাধিক এজেন্টশিপ আছে — বিকাশ, নগদ, রকেট একসাথে — তাদের জন্য প্রশ্নটা আরও কঠিন। কোন ওয়ালেট থেকে কত আয় হচ্ছে, সেটাই তো আলাদা করে জানা নেই।

📲 কমিশন হিসাব অটো — অ্যাপ দেখুন

কমিশন আসে কোথা থেকে

এজেন্ট হিসেবে আয়ের মূল উৎস ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট — দুই ধরনের লেনদেনেই কোম্পানি নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেয়।

হার প্রতিটা প্রোভাইডারে আলাদা, এবং সময়ে সময়ে বদলায়। বিকাশের হার নগদের সাথে মিলবে না, রকেট বা উপায়ের সাথেও না। তাই এই লেখায় নির্দিষ্ট শতাংশ বলছি না — আপনার বর্তমান হার ডিস্ট্রিবিউটর বা কোম্পানির স্টেটমেন্ট থেকে দেখে নিন।

গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো পদ্ধতিটা বোঝা।

এজেন্ট কমিশন হিসাবের সহজ নিয়ম

প্রতিটা ওয়ালেটের জন্য আলাদা করে:

মাসিক কমিশন = (মোট ক্যাশ ইন × ক্যাশ ইন হার) + (মোট ক্যাশ আউট × ক্যাশ আউট হার)

শুনতে সহজ, কিন্তু বাস্তবে আটকে যায় একটা জায়গায় — মোট ক্যাশ ইন আর ক্যাশ আউট কত, সেটাই তো জানা নেই। খাতায় দৈনিক লেনদেন লেখা থাকলেও মাস শেষে সেগুলো ওয়ালেটভিত্তিক আলাদা করে যোগ করা বিশাল কাজ।

এখানেই বেশিরভাগ এজেন্ট হাল ছেড়ে দেন, আর কোম্পানি যা দেয় সেটাই মেনে নেন।

কেন আপনার হিসাব কোম্পানির সাথে মেলে না

পার্সোনাল আর এজেন্ট নম্বর মিশে যাওয়া। নিজের পার্সোনাল বিকাশ বা নগদ দিয়ে কাস্টমারকে সেন্ড মানি করে দিলেন — ওতে এজেন্ট কমিশন নেই, কিন্তু ক্যাশ কমে গেল। এটাই সবচেয়ে সাধারণ গরমিলের কারণ। (টাকার গরমিলের ৭টি কারণ নিয়ে আলাদা লেখা আছে।)

রিভার্সাল ও ব্যর্থ লেনদেন। যে লেনদেন ফেরত গেছে, তাতে কমিশন নেই। কিন্তু খাতায় সেটা রয়েই গেছে।

সময়ের পার্থক্য। মাসের শেষ দিনের রাতের লেনদেন পরের মাসের স্টেটমেন্টে যেতে পারে।

সার্ভিস চার্জ ও কর্তন। নেট কমিশন আর গ্রস কমিশন এক নয়।

ওয়ালেটভিত্তিক কমিশন এক নজরে

বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, এমক্যাশ — কোনটা থেকে কত আয় হচ্ছে, এজেন্ট হিসাব অ্যাপে আলাদা করে দেখুন।

ফ্রি ডাউনলোড করুন

একাধিক এজেন্টশিপ থাকলে যা করবেন

অ্যাপ কীভাবে সাহায্য করে

এজেন্ট হিসাব অ্যাপে কমিশন আলাদা করে লিখতে হয় না — দিনের ওয়ালেট মুভমেন্ট থেকে অ্যাপ নিজেই বের করে আনে। মাসের যেকোনো দিন দেখতে পারেন এ পর্যন্ত কত কমিশন হয়েছে।

আর যেহেতু বাকি, খরচ, মালিকের চালান সবই একই জায়গায়, তাই কমিশন বাদ দিয়ে আসল লাভ কত সেটাও পরিষ্কার দেখা যায়। অনেক এজেন্ট এখানে এসে প্রথমবার বুঝতে পারেন — কমিশন ভালোই আসছে, কিন্তু বাকি আর খরচে সেটা খেয়ে ফেলছে।

শেষ কথা

কমিশন হিসাব রাখা মানে শুধু আয় জানা নয় — এটা জানা যে আপনার পরিশ্রমের দাম ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না।