এজেন্ট হিসাব বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, এমক্যাশ এজেন্টদের জন্য বানানো হিসাবের অ্যাপ — যেখানে প্রতিটা ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট লিখতে হয় না, শুধু ব্যতিক্রম লিখলেই রাতে কমিশন আর গরমিল নিজে বের হয়। যারা নতুন ডাউনলোড করেছেন, বা করব ভাবছেন — এই লেখাটা প্রথম সাত দিনের গাইড: কোন দিন কী করবেন, যাতে সাত দিন পরে অ্যাপটা আপনার দোকানের অভ্যাস হয়ে যায়।
📲 প্লে স্টোর থেকে ফ্রি ডাউনলোড
দিন ০: ডাউনলোড ও লগইন (৫ মিনিট)
- প্লে স্টোরে "এজেন্ট হিসাব" খুঁজুন বা এই লিংকে যান। ফ্রি ডাউনলোড, ৩ দিনের ফ্রি ট্রায়াল।
- মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন — OTP আসবে। এই নম্বরটাই আপনার হিসাবের পরিচয়; ফোন বদলালে একই নম্বরে লগইন করলে সব হিসাব ফিরে আসে।
- লগইনের পর অ্যাপ জিজ্ঞেস করবে আপনি কোন কোন ওয়ালেট চালান — পরের ধাপ।
সবচেয়ে ভালো সময় রাতে দোকান বন্ধের পর, কারণ পরের ধাপে ড্রয়ার গুনতে হবে।
দিন ১: ওয়ালেট সেট করুন, ওপেনিং লিখুন (১৫ মিনিট)
- ওয়ালেট বাছুন — ক্যাশ, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, এমক্যাশ, ব্যাংক, পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট: যেগুলো চালান শুধু সেগুলো। বাকিগুলো স্ক্রিনে আসবে না। পরে নতুন ওয়ালেট যোগ করা যায়।
- প্রতিটার শুরুর ব্যালেন্স লিখুন — ড্রয়ার গুনে ক্যাশ; বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ বা *247#, নগদ *167#, রকেট *322#, উপায় *268# দেখে প্রতিটা ওয়ালেট, পয়সাসহ।
- বাকির খাতায় পুরনো বাকি তুলুন — কাস্টমারের নাম ও নম্বরসহ, যার কাছে কত। নম্বর দিলে পরে SMS তাগাদা দেওয়া যায়।
- অগ্রিম বা DSO-র ঝুলন্ত টাকা থাকলে সেটাও সংশ্লিষ্ট পার্টির নামে।
ব্যস — ওপেনিং শেষ, পুরনো খাতা তুলতে হয়নি। ওপেনিং বের করার পুরো চেকলিস্ট আর ভুল হলে কী করবেন: ওপেনিং ব্যালেন্স দিয়ে হিসাব শুরু।
দিন ১–৭, সারাদিন: শুধু ব্যতিক্রম লিখুন (দিনে ৫ মিনিট)
কাস্টমারের সাধারণ ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট লিখবেন না — অ্যাপ রাতে ওপেনিং-ক্লোজিং থেকে নিজেই বের করে নেবে। লিখবেন শুধু যা স্বাভাবিক ঘোরাফেরার বাইরে:
| যখন | কী লিখবেন | কোথায় |
|---|---|---|
| কাস্টমার টাকা পরে দেবে | বাকি — তার নামে, অঙ্ক | বাকির খাতা |
| কাস্টমার বাকি শোধ করল | আদায় — তার নামে | বাকির খাতা |
| কাস্টমার আগে টাকা দিয়ে গেল | অগ্রিম — তার নামে | বাকির খাতা |
| ভাড়া, বিদ্যুৎ, চা, যাতায়াত | খরচ — কারণসহ | মালিকের হিসাব ও খরচ |
| মালিক টাকা নিলেন / দিলেন | মালিক নিল / মালিক দিল | মালিকের হিসাব ও খরচ |
| DSO থেকে ব্যালেন্স, B2B, ব্যাংক | ওয়ালেট-টু-ওয়ালেট; ঝুলে থাকলে পার্টির নামে | ওয়ালেট |
দিনে এগুলো মিলিয়ে ৫-১০টার বেশি হয় না। কোন লেনদেনে কী বদলায়, কেন ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট লিখতে হয় না: ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট হিসাব; লিফটিং: লিফটিং ও রিফিলের হিসাব।
প্রতি রাতে: "আজকের হিসাব" — ক্লোজিং লিখুন, মেলান (৩ মিনিট)
- ড্রয়ার গুনে ক্যাশের ক্লোজিং লিখুন।
- প্রতিটা ওয়ালেটের অ্যাপে ব্যালেন্স দেখে ক্লোজিং লিখুন।
- "আজকের হিসাব" স্ক্রিনে দেখুন: প্রতিটা ওয়ালেটে থাকার কথা কত, আসলে আছে কত, আর আজকের কমিশন ওয়ালেটভিত্তিক।
- গরমিল থাকলে লাল দেখাবে — আজই খুঁজুন: কোনো বাকি লেখা হয়নি? লিফটিং বাদ পড়েছে? গরমিলের ৭টি কারণ।
পরদিন সকালে আর ওপেনিং লিখতে হয় না — গতরাতের ক্লোজিংই আজকের ওপেনিং।
খাতা চালু রেখেই অ্যাপে শুরু করুন। তৃতীয় রাতে দুটো মিলিয়ে দেখুন কোনটায় কী বাদ পড়ছে।
ফ্রি ডাউনলোড করুনদিন ৩: বাকির খাতা আর SMS তাগাদা
"বাকির খাতা" স্ক্রিনে কাস্টমারভিত্তিক তালিকা — কার কাছে কত পাবেন, কে কত অগ্রিম দিয়েছে, মোট পাবো আর দিবো, আর প্রতিটা কাস্টমারের লেনদেনের ইতিহাস। বাকি দেওয়ার বা আদায়ের পর এক ট্যাপে কাস্টমারের ফোনে SMS — মনে করিয়ে দেওয়া আর রেকর্ড, দুটোই। তৃতীয় দিনে একবার তালিকাটা দেখুন: কার বাকি বাড়ছে, কে সীমা ছাড়িয়েছে। নিয়ম: বাকি সামলানোর ৫টি উপায়।
দিন ৫: "ব্যবসার হালনাগাদ" — এক নজরে সব
এই স্ক্রিনে ব্যবসার বর্তমান অবস্থা: প্রতিটা ওয়ালেটে কত, মোট কত, কাস্টমারের কাছে কত পাওনা, দেনা কত, আর হিসাব মিলছে কি না। দিনের মাঝখানে একবার তাকালেই বোঝা যায় ব্যালেন্স কোন ওয়ালেটে কমে আসছে — লিফটিং ডাকার সময় হলো কি না। মালিক দূরে থাকলে এই স্ক্রিনটাই দূর থেকে দেখেন।
দিন ৭: রিপোর্ট দেখুন, PDF পাঠান
প্রথম সপ্তাহ শেষে রিপোর্ট স্ক্রিনে সাত দিনের হিসাব: দিনভিত্তিক কমিশন, কোন ওয়ালেটে বেশি, মোট বাকি কোন দিকে গেল, খরচ কত। যেকোনো তারিখ বা পরিসরের রিপোর্ট PDF বানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মালিক, পার্টনার বা ডিস্ট্রিবিউটরকে পাঠানো যায়। মাস শেষে এখানেই লাভ-ক্ষতি — কমিশন থেকে খরচ আর মালিকের চালান আলাদা করে। কী দেখবেন: দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক রিপোর্ট।
সাত দিন পরে যা পাবেন
- প্রতিদিন রাতে জানেন হিসাব মিলল কি না — গরমিল সেদিনই।
- ওয়ালেটভিত্তিক কমিশন — কোন সেবা আসলে লাভ দিচ্ছে।
- বাকি কাস্টমারের নামে, SMS-এ তাগাদা — মুখে মনে রাখা শেষ।
- খরচ আর মালিকের চালান আলাদা — মাস শেষে আসল লাভ।
- সব হিসাব ক্লাউডে — ফোন হারালেও থাকে, মালিক দূর থেকে দেখেন।
ওয়ালেটভিত্তিক দৈনিক নিয়ম: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়। পুরো পদ্ধতি: মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার হিসাব রাখার পদ্ধতি।
সচরাচর প্রশ্ন
এজেন্ট হিসাব অ্যাপ কি ফ্রি?
ডাউনলোড ফ্রি, আর ইনস্টল করলেই ৩ দিনের ফ্রি ট্রায়াল — সব ফিচার। এরপর প্রিমিয়াম প্যাকেজ নিতে হয়; মেয়াদভেদে প্যাকেজ আছে, যত বেশি মেয়াদ তত সাশ্রয়। কোনো বিজ্ঞাপন নেই, প্রতি এন্ট্রিতে আলাদা চার্জ নেই। প্যাকেজের দাম hisabkari.com-এর হোমপেজে।
এজেন্ট হিসাব অ্যাপে কি প্রতিটা ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট লিখতে হয়?
না। সকালের ওপেনিং আর রাতের ক্লোজিং ব্যালেন্স থেকে অ্যাপ নিজেই দিনের লেনদেন আর কমিশন বের করে। আপনি লেখেন শুধু ব্যতিক্রম — বাকি, আদায়, অগ্রিম, খরচ, মালিক দিল/নিল, আর লিফটিং-B2B-ব্যাংকের মতো ওয়ালেট-টু-ওয়ালেট। দিনে ৫-১০টা এন্ট্রি, ৫ মিনিটের কাজ।
ফোন হারালে বা বদলালে হিসাব থাকবে?
থাকবে। সব হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে জমা হয়। নতুন ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করে একই মোবাইল নম্বরে OTP দিয়ে লগইন করলেই সব ওয়ালেট, বাকির খাতা আর পুরনো দিনের হিসাব ফিরে আসে।
বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় একসাথে চালাই — একটা অ্যাপেই হবে?
হ্যাঁ। প্রথম দিন যে যে ওয়ালেট চালান বেছে নেবেন — ক্যাশ, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, এমক্যাশ, ব্যাংক, পার্সোনাল — শুধু সেগুলোই স্ক্রিনে থাকবে। প্রতিটার ব্যালেন্স আলাদা, কমিশন ওয়ালেটভিত্তিক আলাদা, ড্রয়ারের ক্যাশ একটাই। পরে নতুন ওয়ালেট যোগ করা যায়।
খাতা থেকে অ্যাপে এলে পুরনো হিসাব তুলতে হবে?
না। প্রথম দিন প্রতিটা ওয়ালেট আর ক্যাশের বর্তমান ব্যালেন্স ওপেনিং হিসেবে লিখুন আর পুরনো বাকিগুলো কাস্টমারের নামে বাকির খাতায় তুলুন — সেদিন থেকেই হিসাব চলবে। প্রথম সপ্তাহ খাতাও চালু রাখুন, রাতে দুটো মিলিয়ে দেখুন; সাধারণত তৃতীয় দিনেই অ্যাপের হিসাবে ভরসা চলে আসে।
শেষ কথা
হিসাবের অ্যাপ ছয় মাস পরে চালু থাকে কি না, সেটা ঠিক হয় প্রথম সাত দিনে। তাই প্রথম দিন ওপেনিংটা মন দিয়ে করুন, রাতে তিন মিনিট মেলানোটা অভ্যাস করুন, আর ক্যাশ ইন-ক্যাশ আউট লেখার লোভ ছাড়ুন — ওটা অ্যাপের কাজ। সাত দিন পরে খাতাটা ড্রয়ারে রেখে দিন; দরকার পড়বে না।
